না ফেরার দেশে চলে গেলেন প্রবাসে মুক্তিযুদ্ধের অন্যতম সংগঠক বীর মুক্তিযোদ্ধা ও নিষিদ্ধ ঘোষিত যুক্তরাজ্য আওয়ামী লীগের সভাপতি সুলতান মাহমুদ শরীফ (ইন্না লিল্লাহি ওয়া ইন্না ইলাইহি রাজিউন)।
শনিবার লন্ডন সময় ভোর রাত ৩ টায় তিনি সেন্ট্রেল লন্ডনের সেন্ট খ্রিস্ট হসপাইসে নিঃশ্বাস ত্যাগ করেন। এর আগে তিনি কিংস কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন ছিলেন, শেষ মুহূর্তে তাঁকে হাসপাতাল থেকে হসপাইসে স্থানান্তর করা হয়। মৃত্যুকালে তার বয়স হয়েছিল ৮৫ বছর। তিনি দীর্ঘ দিন ধরে বার্ধক্যজনিত নানান রোগে ভুগছিলেন।
সুলতান মাহমুদ শরীফ ২০১১ সাল থেকে সম্প্রতি নিষিদ্ধ ঘোষিত আওয়ামী লীগের যুক্তরাজ্য শাখার সভাপতির দায়িত্ব পালন করছেন। মৃত্যুকালে তিনি ২ মেয়ে, নাতি—নাতনিমহ অসংখ্য গুণগ্রাহী রেখে গেছেন। যুক্তরাজ্য আওয়ামী লীগের সেক্রেটারী সৈয়দ সাজিদুর রহমান ফারুক জানিয়েছেন, সুলতান মাহমুদ শরীফের জানাজার নামাজের সময়সূচি পরবর্তীতে জানানো হবে।
সুলতান মাহমুদ ১৯৪১ সালের ২৬ শে জানুয়ারী বরিশাল জেলার কতোয়ালী থানার চানপুরা ইউনিয়নের সারুখালী গ্রামে এক সম্ভ্রান্ত পরিবারে জন্মগ্রহণ করেন।
রাজনৈতিক জীবন
সুলতান মাহমুদ শরীফ, স্কুল জীবনেই তিনি বাংলাদেশ ছাত্রলীগের রাজনীতিতে সম্পৃক্ত হন। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে অধ্যয়নকালে ইকবাল হল ছাত্রলীগের সাধারণ সম্পাদকের দায়িত্ব পালন করেন তিনি। ৬২—৬৩ সালে আইয়ুব বিরোধী আন্দোলন, হোসেন সোহরাওয়ার্দীর মুক্তি আন্দোলন, শেখ মুজিবুর রহমানের মুক্তি আন্দোলন, শিক্ষা কমিশনের রিপোর্ট বাতিলের আন্দোলনে যুক্ত ছিলেন সুলতান শরীফ। ১৯৬৩ সালে আইয়ুব বিরোধী আন্দোলনের সময় লন্ডনে একজন ছাত্রনেতা হিসেবে সামনের কাতারে ছিলেন তিনি। ১৯৭১ সালের মুক্তিযুদ্ধের সময় প্রবাসে মুক্তিযুদ্ধের দক্ষ সংগঠক হিসেবে তাঁর ভূমিকা ছিল অনন্য। যুক্তরাজ্য প্রবাসী বাঙালিদের নিয়ে বিশ্ব জনমত গড়ে তুলতে আরও অনেকের সঙ্গে তিনি ছিলেন সামনের কাতারে। ১৯৭১ সালের এপ্রিল মাসে লন্ডন থেকে বাংলাদেশে গিয়েও স্বাধীনতা যুদ্ধে তিনি সক্রিয়ভাবে অংশগ্রহণ করেন।
রাজনীতিতে তাঁর অবদান অনেক। ব্রিটেনে বাঙালি কমিউনিটির একজন অভিভাবক হিসেবে তাকে সব সময় পাশে পেয়েছে কমিউনিটি। বিলেতে বাঙালি কমিউনটির প্রতিটি আন্দোলন সংগ্রামে তিনি একজন দিক নির্দেশক ও কান্ডারি হিসেবে আলোর পথ দেখিয়েছেন।
